বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হতে পারে ১০.৯ শতাংশ, আইএমএফের পূর্বাভাস
বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হতে পারে ১০.৯ শতাংশ, আইএমএফের পূর্বাভাস

বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি বেড়ে হতে পারে ১০.৯ শতাংশ, আইএমএফের পূর্বাভাস
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে আরও হতাশার খবর দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে আসতে পারে ৩ দশমিক ২ শতাংশে। আগের পূর্বাভাসের তুলনায় যা ১ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট কম। এর আগে, এডিবি ৪ শতাংশ এবং বিশ্বব্যাংক ৩ দশমিক ৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছে। কম আয়ের মানুষের জন্য বড় দুঃসংবাদ, সহসাই জিনিসপত্রের দামও কমবে না। একই সময়ে গড় মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১০ দশমিক ৯ শতাংশে উঠতে পারে।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।


সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু হয়ে এই সম্মেলন চলবে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব‍্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনে উন্নয়ন সহযোগী, বিশেষ করে আইএমএফ এবং বিশ্বব্যাংকের কাছে সহযোগিতা চেয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বৈঠক করেছেন আইএমএফের নিরাপত্তা পরিচালক উরজিত প‍্যাটেল এবং বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনা বিয়ের্দের সঙ্গে।

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস) এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, বিশ্ব অর্থনীতি টিকে থাকার সক্ষমতা বজায় রেখেছে। তবে, এই সক্ষমতা ধরে রাখা ক্রমশ ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধির হার হবে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ । মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক বিনিয়োগ সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সহায়তা করছে।

এছাড়া, ২০২৬ সালে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৪ দশমিক ৭ শতাংশে  পৌঁছাতে পারে এবং এরপর ২০২৭ সালে তা কমে ৪ দশমিক ১ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অর্থনৈতিক পরিস্থিতির অবনতির ঝুঁকি এখনো বিদ্যমান-যার মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতে নতুন করে তীব্রতা বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংক্রান্ত প্রত্যাশাগুলোর পুনর্বিবেচনা। তবে, ইতিবাচক সম্ভাবনার দিকও রয়েছে। যদি এআই  বিনিয়োগ দীর্ঘস্থায়ী হয়, উৎপাদনশীলতা দ্রুত বাড়ে, বাণিজ্য ব্যবস্থার উন্নতি ঘটে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির উচ্চমূল্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করে, তাহলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।


আইএমএফ জানায়,নীতিগত অগ্রাধিকারের বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে-সরকারি অর্থব্যবস্থার সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের প্রস্তুতি উন্নত করা এবং বাণিজ্য ও সহযোগিতার পথগুলো উন্মুক্ত রাখা।




বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতির সঙ্গে একমত বিশ্বব্যাংক : অর্থমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারের তৈরি নীতি ও কর্মসূচির সঙ্গে বিশ্বব্যাংক একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী।

আমির খসরু বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়িত্বের বোঝা বহন করতে হচ্ছে সরকারকে। এর সঙ্গে বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও রয়েছে। এসব বিষয় বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকার যেসব নীতি গ্রহণ করেছে, সেগুলোর সঙ্গে সংস্থাটি একমত।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত। এ বিষয়ে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। বাংলাদেশকে পূর্ণাঙ্গ সমর্থন দিতে বিশ্বব্যাংক প্রস্তুত রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের কাছে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা চাওয়ার বিষয়ে প্রকাশিত খবরের প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা একটি চলমান প্রক্রিয়া। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

তিনি বলেন, আমি এখানে একটা জিনিস পরিষ্কার করে বলতে চাই, এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। আমি অনেকগুলো ভুল প্রতিবেদন দেখতে পাচ্ছি এখানে-সেখানে। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে একটা ফলোআপ হবে। এটা একটা প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, এখনকার আলোচনাকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না। বরং ভবিষ্যতে দুই পক্ষ যেসব কাজ করবে এবং যেসব সিদ্ধান্ত নেবে, তার ভিত্তি তৈরি হচ্ছে এই আলোচনার মাধ্যমে। আলোচনা ঢাকায়ও চলবে এবং পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগবে।

তবে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ কার্যক্রম নির্ধারণের জন্য যে ভিত্তি তৈরি করা দরকার, সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে পৌঁছেছে। সরকারের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি ও মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে সমঝোতা রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার এবং সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের অবস্থানের সামঞ্জস্য রয়েছে। কীভাবে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়ন করা হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব লিখিতভাবে জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আমির খসরু বলেন, আমরা বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে পার্টনারশিপ ফ্রেমওয়ার্ক কী হবে, তা লিখিতভাবে জমা দিয়েছি। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই কাঠামো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আলোচনার মাধ্যমে এ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।

মূল্যস্ফীতি-জিডিপি বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশা

মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস এবং সরকারের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রী বলেন, অন্য কোনো সংস্থার পূর্বাভাসকে বিতর্কিত করতে চায় না সরকার। সংস্থাগুলো নিজ নিজ হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পূর্বাভাস দিয়েছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক দেখে পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে।

তিনি বলেন, আমরা কারও প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চাই না। এটা তাদের হিসাবে তারা দিয়েছে। আমরা আমাদের কাজ করে যাচ্ছি, তারা তাদের মতো করছে। আমাদের মধ্যে যে সহযোগিতা দরকার, সেই সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে এটাই মূল কথা।

সরকারের বাজেটে নির্ধারিত মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বাজেটে যেসব প্রক্ষেপণ দেওয়া হয়েছে, সরকার সেগুলো পূরণ করতে পারবে বলে আশা করছে।

এদিকে বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ নিয়ে আইএমএফের সাইড ইভেন্টে আলোচনা হয়েছে৷ এই ইভেন্টে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভার সাইড ইভেন্টে বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, অর্থনৈতিক নীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে আইএমএফের গবেষণা বিভাগের পরিচালক সিলভিনা টেনরেইরোসহ চারজন গবেষক উপস্থিত ছিলেন। আলোচনার অন্যতম বিষয় ছিল আইএমএফের ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক (ডব্লিউইও)।

এর আগে সকালে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভা চলাকালে এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমার পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমএফ।

সংস্থাটির সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে। গত এপ্রিলে প্রকাশিত পূর্বাভাসে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার সম্ভাবনা দেখিয়েছিল সংস্থাটি। একই সময়ে দেশে গড় মূল্যস্ফীতি ১০ দশমিক ৯ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ৩ দশমিক ৪ শতাংশের পূর্বাভাস দিয়েছে। অন্যদিকে, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাসও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে আজ ব্যাংককে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন কার্যক্রমে সহযোগিতা চেয়েছেন।

তবে, বিশ্ব অর্থনীতির চিত্রও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি ও খাদ্যের দাম বৃদ্ধি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চাপ সৃষ্টি করছে। তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধিকে কিছুটা সহায়তা করছে।

আইএমএফের মতে, অর্থনৈতিক ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারি অর্থব্যবস্থার সক্ষমতা পুনরুদ্ধার, জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার এবং বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা জরুরি।




বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বেসরকারি পুঁজিতে জোর বিশ্বব্যাংকের

বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বেসরকারি পুঁজিতে জোর বিশ্বব্যাংকের
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিদেশি বিনিয়োগ বাড়িয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহে জোর দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক। এ লক্ষ্যে বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানো, ঋণ ও পুঁজিবাজারের সক্ষমতা বাড়ানো, স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়ন এবং নীতিগত সংস্কারের মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থাটি।

একই সময়ে থাইল্যান্ডের বিনিয়োগ আকর্ষণে কৃষি ও কৃষিজাত পণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালাল খাদ্য উৎপাদন, শিল্পায়ন এবং দুদেশের মধ্যে যৌথ উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে বাংলাদেশ। তবে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে বিশ্বব্যাংকের নতুন কোনো বিনিয়োগ কর্মসূচি বা নির্দিষ্ট অর্থায়নের ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে সোমবার (১২ অক্টোবর) শুরু হওয়া বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বার্ষিক সভায় বেসরকারি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে। সভায় অংশ নিতে গিয়ে থাই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

তিনি জানান, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালাল খাদ্য উৎপাদন ও শিল্পায়নের মতো খাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের বিষয়ে থাই ব্যবসায়ীদের আগ্রহ রয়েছে। পাশাপাশি থাইল্যান্ডের রেনং বন্দর ও চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সামুদ্রিক যোগাযোগ বাড়িয়ে দুদেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে থাইল্যান্ডের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। শুধু বাণিজ্য ঘাটতি কমানো নয়, দুদেশের মধ্যে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার সংযোগ গড়ে তুলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি বাড়ানো সরকারের লক্ষ্য।

বিশ্বব্যাংকের প্রকাশিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ১৪ অক্টোবর বার্ষিক সভায় ‘কর্মসংস্থানের জন্য বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহ’ বিষয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন রয়েছে। এতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গাসহ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ও আর্থিক খাতের প্রতিনিধিদের অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। অধিবেশনে উদীয়মান অর্থনীতিতে বেসরকারি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি, পুঁজিবাজার শক্তিশালী করা, স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়ন এবং বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি কমাতে বিভিন্ন আর্থিক নিশ্চয়তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে আলোচনা হবে।

এক বছরে ১১২০০ কোটি ডলারের বেসরকারি পুঁজি

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সংস্থাটি ১১২ বিলিয়ন বা ১১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহে সহায়তা করেছে। ২০২২ অর্থবছরে এর পরিমাণ ছিল ৩৫ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। অর্থাৎ, চার বছরে এ ধরনের বিনিয়োগ তিন গুণের বেশি বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের নিজস্ব অর্থায়নের সঙ্গে বেসরকারি পুঁজি যুক্ত করে ২০২৬ অর্থবছরে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে মোট অর্থায়ন ও বিনিয়োগ সংগ্রহের পরিমাণ ২০০ বিলিয়ন বা ২০ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে।

সংস্থাটির মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবকাঠামো, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের চাহিদা পূরণে শুধু সরকারি অর্থায়ন যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ যুক্ত করা প্রয়োজন। এ কারণে নিজস্ব অর্থায়নকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি বেসরকারি পুঁজি আকৃষ্ট করা এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি কমানোর কৌশলকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিশ্বব্যাংক।

কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে বড় সম্ভাবনা

বাংলাদেশে মৌসুমে আম, কাঁঠাল, লিচু ও অন্যান্য কৃষিপণ্যের সরবরাহ বেশি থাকলেও পর্যাপ্ত হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ সুবিধার অভাবে অনেক পণ্য নষ্ট হয়। এতে কৃষকেরা অনেক সময় ন্যায্য দাম পান না। এসব পণ্য সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির সুযোগ রয়েছে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

থাই চেম্বারের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলো তুলে ধরা হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা বলেন, কৃষিজাত পণ্য এবং হালাল খাদ্যপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণে থাই বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ দেখা গেছে। বাংলাদেশে উৎপাদিত ফল ও অন্যান্য কৃষিপণ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ এবং প্রক্রিয়াজাত করা গেলে এ খাতে বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

এ ধরনের বিনিয়োগ শুধু রপ্তানি আয় বাড়াবে না, বরং কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, অপচয় কমানো এবং গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তিনি।

কৃষি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, অবকাঠামো, উৎপাদনশিল্প, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগেও বিদেশি বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। এসব খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে পারলে উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরি হবে।

যৌথ উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়তে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডের মধ্যে যৌথ উৎপাদন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, দুদেশের মধ্যে এমন উৎপাদন নেটওয়ার্ক তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে কোনো পণ্যের প্রাথমিক উপকরণ বাংলাদেশে উৎপাদিত হবে, মধ্যবর্তী পণ্য থাইল্যান্ডে তৈরি হবে এবং পরে চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদন করে আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা হবে। আবার কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে থাইল্যান্ডে প্রাথমিক বা মধ্যবর্তী পণ্য তৈরি করে বাংলাদেশে চূড়ান্ত পণ্য উৎপাদনের সুযোগও রয়েছে।

এ ধরনের উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে উঠলে দুই দেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো পরস্পরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারবে। এতে বিনিয়োগ, উৎপাদন ও বাণিজ্যের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়বে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার মতে, শুধু পণ্য আমদানি-রপ্তানির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সীমাবদ্ধ না রেখে শিল্পায়ন, মূল্য সংযোজন ও যৌথ উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। এতে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর বাজারের পাশাপাশি অন্যান্য আন্তর্জাতিক বাজারেও পণ্য রপ্তানির সুযোগ তৈরি হতে পারে।

রেনং-চট্টগ্রাম সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাড়ানোর উদ্যোগ

থাইল্যান্ডের রেনং বন্দর ও বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের মধ্যে সামুদ্রিক যোগাযোগ আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, দুই বন্দরের মধ্যে সংযোগ বাড়ানো এবং পণ্য পরিবহনকে আরও গতিশীল করা গেলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের ব্যবসায়ীরা তুলনামূলক সহজে পণ্য পরিবহনের সুযোগ পেতে পারেন। পাশাপাশি কৃষিপণ্য, প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, শিল্পের কাঁচামাল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা যৌথ উৎপাদন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা এবং আঞ্চলিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ক্ষেত্রেও সহায়ক হতে পারে।

মুক্তবাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা

থাইল্যান্ডসহ আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব (আরসিইপি) কাঠামোর সুবিধা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, শুল্কসুবিধা কাজে লাগিয়ে দুদেশের বাণিজ্য বাড়ানো সম্ভব। তবে লক্ষ্য শুধু বাণিজ্য ঘাটতি কমানো নয়, বরং উৎপাদন, বিনিয়োগ ও রপ্তানির পরিমাণ বাড়ানো।

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বহুমুখী উদ্যোগ

থাইল্যান্ডের সঙ্গে বিনিয়োগ আলোচনার পাশাপাশি অন্যান্য দেশ থেকেও বিনিয়োগ আকর্ষণের চেষ্টা চলছে বলে জানান রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, চীনের বিভিন্ন বিনিয়োগ উদ্যোগ শুরু হয়েছে। জাপানের টয়োটা ও মারুবেনি করপোরেশনের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল এবং প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যোগাযোগের কথা উল্লেখ করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার মতে, বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত স্থিতিশীলতা, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা এবং ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। বিদেশি বিনিয়োগের পাশাপাশি বন্ধ কলকারখানা চালু করা এবং নতুন শিল্প স্থাপনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান বাড়াতে হবে।

তিনি জানান, বন্ধ কলকারখানা চালুর ক্ষেত্রে সাত শতাংশ ঋণাত্মক সুদে অর্থায়নের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এ অর্থায়নের বিস্তারিত শর্ত ও বাস্তবায়ন পদ্ধতি তিনি তুলে ধরেননি।

রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা। এ লক্ষ্য অর্জনে থাইল্যান্ডের মতো আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও গভীর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশের সামনে কী সুযোগ

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বর্তমানে বিনিয়োগের গতি, জ্বালানি সরবরাহ, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা ও রাজস্ব আদায় বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাংকের ৬ অক্টোবর প্রকাশিত বাংলাদেশ উন্নয়ন হালনাগাদে বলা হয়েছে, এসব কাঠামোগত সমস্যার কারণে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

প্রতিবেদনটিতে ২০২৫-২৬ ও ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি সরবরাহের উন্নতি এবং সংস্কার কার্যক্রম জোরদার হলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৯ শতাংশে উন্নীত হতে পারে বলে আশা করছে সংস্থাটি।

বিশ্বব্যাংকের মতে, অর্থনীতিকে টেকসই প্রবৃদ্ধির ধারায় ফেরাতে ব্যাংক খাত, রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন। একই সঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়িয়ে নতুন ও উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশের সামনে অর্থায়নের সুযোগ তৈরির পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নের চ্যালেঞ্জও রয়েছে। নীতির ধারাবাহিকতা, সহজে ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার সুযোগ, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ জনবল, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি এবং মুনাফা প্রত্যাবাসনের নিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলে।

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ-বিষয়ক মূল্যায়নেও ব্যাংক খাতের দুর্বলতা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যবসার ব্যয় বৃদ্ধি এবং সীমিত সরকারি বিনিয়োগের বিষয়গুলো উঠে এসেছে। এসব সমস্যা সমাধান করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য তুলনামূলক অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

ঝুঁকি কমাতে নতুন আর্থিক কৌশল

উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ও নীতিগত অনিশ্চয়তা, দুর্বল অবকাঠামো, অর্থায়নের উচ্চ ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি বড় বাধা। এসব ঝুঁকি কমাতে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ঋণ নিশ্চয়তা, বিনিয়োগের ঝুঁকি ভাগাভাগি এবং স্থানীয় মুদ্রায় অর্থায়নের মতো ব্যবস্থা ব্যবহার করছে।

বিশেষ করে বহুপক্ষীয় বিনিয়োগ নিশ্চয়তা সংস্থার (এমআইজিএ) মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের নির্দিষ্ট ঝুঁকির বিপরীতে নিশ্চয়তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এতে কোনো প্রকল্পে সরাসরি অর্থায়নের পাশাপাশি অন্য বিনিয়োগকারীদেরও অর্থ আনতে উৎসাহিত করা সম্ভব।

বিশ্বব্যাংকের সাম্প্রতিক কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য হলো নিজস্ব অর্থায়নকে কাজে লাগিয়ে আরও বেশি বেসরকারি পুঁজি আকৃষ্ট করা। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের কোনো নতুন নিশ্চয়তা বা বিনিয়োগ কর্মসূচি অনুমোদিত হয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ব্যাংককে চলমান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সংস্থাটির বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহের কৌশল থেকে দেশটি কীভাবে বাস্তব সুবিধা নিতে পারবে। এ ক্ষেত্রে নতুন অর্থায়ন, বিনিয়োগ নিশ্চয়তা, সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিতকরণ এবং সংস্কারের বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য শেষ পর্যন্ত সাফল্য নির্ভর করবে শুধু বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতির ওপর নয়, বরং কতটা নতুন পুঁজি আসছে, কতটি প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে কত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, তার ওপর।

থাইল্যান্ডের সঙ্গে কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালাল খাদ্য উৎপাদন, যৌথ শিল্পায়ন ও সামুদ্রিক যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ এবং বিশ্বব্যাংকের বেসরকারি পুঁজি সংগ্রহের কৌশলকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের সামনে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে।




জ্বালানি খাতের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ

জ্বালানি খাতের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চায় বাংলাদেশ
ছবি সংগৃহীত।

বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাবে জ্বালানি খাতে সৃষ্ট চাপ মোকাবিলা এবং বাড়তি ব্যয়ের বোঝা সামলাতে বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে কাজ চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সোমবার (১২ অক্টোবর) থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের শুরুতে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এ চাপ সামাল দিতে এক ধরনের আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাংক এ বিষয়ে সহযোগিতার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। ভবিষ্যতেও সংস্থাটি বাংলাদেশের পাশে থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতার বিষয়টি শুধু বিদ্যমান তহবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি খাতে চলমান সংকটের প্রভাব মোকাবিলায়ও সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তি নিয়ে আলোচনা ও প্রক্রিয়াগত কাজ চলছে। দুপক্ষের অংশীদারত্বের আওতায় কীভাবে সহযোগিতা আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়েও আলোচনা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান উদ্যোগগুলোর সামঞ্জস্যের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে।